বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

হাসা হাসি

জঙ্গলে এক চিতা বিড়ি খাচ্ছিল তখন এক ইঁদুর আসলো আর বলেঃ “ভাই নেশা ছাইড়া দেও, আমার সাথে আস দেখ জঙ্গল কত সুন্দর” চিতা ইদুরের সাথে যাইতে লাগলো সামনে হাতি ড্রাগ নিচ্ছিল ইঁদুর হাতিকেও এক ই কথা বলল এর পর হাতিও ওদের সাথে চলতে শুরু করলো কিছুদুর পর তারা দেখল বাঘ হুইস্কি খাচ্ছে ইঁদুর যখন তাকেও এক ই কথা বলল সাথে সাথে বাঘ হুইস্কির গ্লাস রেখে ইদুরকে দিল কইসা একটা থাপড়!! হাতিঃবেচারাকে কেন মারতাছ??
বাঘঃএই শালা কালকেও গাজা খাইয়া আমারে জঙ্গলে ৩ ঘণ্টা ঘুরাইছিল

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১

আমাদের জাতীয় চরিত্র, পর্ব এক

(যারা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেন তাদের জন্য প্রযোজ্য)


আমরা বেশীরভাগ মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ওঠার আগ পর্যন্ত অত্যন্ত বিপদে থাকি এবং প্রানান্তকর চেষ্টা করি। কিন্তু উঠতে পারলে ভিন্ন রূপ - এরপর চেষ্টা থাকে কিভাবে অন্যকে রোখা যায়। ভাই জায়গা নাই; পারাপারি করতাছেন ক্যান। মুখে থাকে হাসি। ভাবটা এমন; আমি পারছি। আপনে পারেন নাই; তাতে কি। পরেরটায় আসুন। কেউ কেউ আবার চরম বিরক্ত। ভাবটা এমন লোকগুলা তো বড়ই ফাউল। খালি ঠেলাঠেলি করে। যেই লোকটা এই ঠেলাঠেলির যন্ত্রণা সহ্য করে উঠতে পারে তারও একই আচরন হয় বাকিদের প্রতি।
  

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১

ফরিদপুর, কুলিয়ার চর, কিশোরগঞ্জ বেড়াতে গিয়েছিলাম

জায়গাটা আমাদের এক বন্ধুর গ্রামের বাড়ি (ফরিদপুর গ্রাম)। ওখানে আমরা সবাই অনেকবার গিয়েছি। তারপরও কেউ ওখানে যাওয়ার কথা বললে বিরক্ত হয়না। বাড়িটা অনেক বড় এবং নিরিবিলি।


১১.১১.১১ তারিখে বিকাল ৪.৩০টা ৫.০০টার দিকে রওয়ানা দিয়েছিলাম। মোট ১১ বন্ধু। আমরা ৮ জন বৌ বাচ্চাসহ।


আনন্দে কেটেছে ঈদ উত্তর দুইটা দিন। স্পেশাল তারিখে (এমন আরেকটি তারিখ ১০০০ বছর পরে আসবে) বার বি কিউ পার্টি, রাত জেগে আড্ডাবাজি, হৈ হুল্লোড়। ভোরে উঠে পিঠা খাওয়া, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা, তারপর গ্রামের ভিতর ঘুরতে যাওয়া। বাচ্চাদের হুলুস্থুল। দুপুরে শ্যালো মেশিনের পানিতে গোসল করা। তারপর খাবারের উপরে হামলে পড়া।


পরদিন সন্ধ্যার পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা।

এইখানে ক্লিক করুন

দুই বলদ

বৃহষ্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১১

ছাত্রদের রাজনীতি করার দরকার আছে কি?

যারা রাজনীতি সচেতন...তারা একবাক্যে বলবেন...হ্যাঁ


তারা বলবেন স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা...স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা...
তখন তো সবাই ছিলো...শুধু ছাত্ররা না...ওই ধরনের পরিস্থিতি তো সবসময় ঘটেনা...সময়ের প্রয়োজনে সবাইকেই ঘর থেকে বের হতে হয়...


কিন্তু তার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির নামে এই লেজুড়বৃত্তি সহ্য করতে হবে?


আমার মতে, ছাত্রদের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত লেখাপড়া / গবেষনা...অন্য কোন কাজ নয়...

সভ্যতা ও জলাশয়

জগতের সব সভ্যসমাজে জলাশয়কে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। লন্ডনের টেমস নদীর অবস্থা একসময় আমাদের বুড়ীগঙ্গার চেয়েও খারাপ ছিলো। এখন দেখুন ওরা কি করেছে। থাইল্যান্ডের যে জায়গাটাকে Floating Market হিসাবে সারা পৃথিবী চিনে তার অবস্থা এখনও আমাদের বুড়ীগঙ্গার চেয়ে খারাপ। নোংরা পানি; সরু জলাশয়। দুই ধারে ওরা কি মহাসমারোহ করে রেখেছে। আমাদের চ্যানেলগুলো ভ্রমণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানগুলোতে দেখায়। এরকম অসংখ্য উদাহরন আছে সারা পৃথিবীতে।


অথচ আমাদের এত সুন্দর প্রাকৃতিকভাবে সাজানো নদীতো আছেই.......শহরের মাঝেই আছে অনেক জলাশয়। এগুলো চরম আক্রোশে ভরাট চলছে প্রতিনিয়ত।


তাহলে আমরা কি সভ্য না............?

ফুটপাত দিয়ে হাঁটা কত কষ্টকর জানেন কি?

নিশ্চই জানেন...
ফুটপাত দিয়ে হাঁটা মানে জীবনযাপন কত কষ্টকর তা উপলব্ধি করা...পদে পদে বাঁধা...কোথাও উঁচু নিচু...কোথাও দোকানের সাইনবোর্ড (উপরে ও নীচে)...কোথাও দোকানের মালপত্র রাখা...কোথাও মটরসাইকেলের যন্ত্রণা...কোথাও গর্ত ও খানাখন্দ...
এগুলো দেখেই মনে হয় গান লেখা হয়েছে..."জীবন মানে যন্ত্রণা...নয় ফুলের বিছানা.."

বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি করার সময় আমাদের দেশের লোকজন কেন সবসময় ধরা খায়?

বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি করার সময় আমাদের দেশের মানুষেরা সাধারনত দুটি কারণে ধরা খায় বলে আমার মনে হয় :

০১। প্রথমত: অযোগ্যতা (তারা বুঝতেই পারেনা কিভাবে ভবিষ্যতে তাদের ঠকানো হবে)
০২। দ্বিতীয়ত: দেশপ্রেমহীনতা (তারা চুক্তির মাধ্যমে জিততে চায়না...নিজেদের পকেটে অর্থ সমাগম হলেই তারা খুশী)

নেতার বক্তৃতা কেমন হ্ওয়া উচিত?

আমি আমার মত বলি...

নেতার বক্তব্য হ্ওয়া উচিত সুচিন্তিত...দিকনির্দেশনামূলক...প্রণোদনামূলক...
নেতা হইয়াছি দেইখা দুই চাইরটা ডায়ালগ (থুক্কু মনোলগ) মাইরা দিলাম...এমন নেতা চাইনা...

বক্তৃতা এমন হ্ওয়া উচিত যা যুগের পর যুগ মানুষ মনে রাখবে...পাঠ্যপুস্তকে চলে আসবে...মানুষে উদাহরণ দিবে...

অনেকেরটা নাকি বড় বড় মানুষেরা লেইখা দেয়...কিন্তু বক্তৃতায় কোন বস্তু নাই...একঘেয়ে, নিষ্প্রাণ, পুরান ক্যাচল আর প্যাচাল, মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা ইত্যাদি

হেরা ভাবে দেশের বেশীরভাগ মানুষ অশিক্ষিত...একটা কিছু কইয়া দিলেই হইলো। আরে ফাউল বিচক্ষনতার সাথে প্রচলিত শিক্ষার কোন যোগাযোগ নাই। জগতের অনেক প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত মানুষের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নাই।

বিদেশী অতিথী ও আমাদের হীনমন্যতা

আমাদের অফিসে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায়ই বিভিন্ন বিদেশী অতিথী আসেন। অতিথী সম্নানিত সবসময়ই। কিন্তু আমাদের লোকেরা এমন বিনয়ী হয় দেখে মনে হয় ওরা প্রভু আর আমরা ভৃত্য। অথচ এমনও আছে - আমরা ভালো পরিস্থিতিতে আছি। ওরা আমাদের কাছ থেকে কোন সুবিধা নিতে চায়। তাই আলোচনা করতে এসেছে। কিন্তু আমাদের লোকজন এমন ভাব করে যে, মনে হয় ওরা দয়া করে এসেছে এটাই ওদের মহানুভবতা। এই হীনমন্যতা আমাদের জাতীয় সমস্যা মনে হয়। বিদেশী মানে উন্নত জাত। বিদেশ থেকে চোর আসলো না ডাকাত আসলো না কোন ধান্দাবাজ আসলো সে বিবেচনা পরে। আগে মাথা নত করে তাকে কুর্ণিশ করো। কোনটা যে সম্মান আর কোনটা হীনমন্যতা আমরা সম্ভবত বুঝিনা। তাই সম্মান পাই ও না।

এদের কারবার দেখে প্রায়ই মন খারাপ হয়।

শান্তির শহর ঢাকা

কি অদ্ভুত লাগছে এই শহরটাকে। মনে হয় কোন মফস্বল শহর। মনে কেমন শান্তি শান্তি লাগছে। ঘুরতে আরাম, হাঁটতে আরাম, দম নিতে আরাম, কানে আরাম.....আরামই আরাম।

এতবড় দেশ। শুধু ঢাকা শহরেই জ্যাম আর জ্যাম। যদি আমাদের দেশে স্মার্ট কোন সরকার থাকতো অর্থাৎ যদি আমাদের দেশে কোন সরকার থাকতো তাহলে সব জেলায় না হলেও কিছু কিছু জেলায় প্রশাসনিক কাজকর্ম ভাগ করে দিলে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করলে মোট কথা পরিকল্পনা মত বিকেন্দ্রীকরন করলে ঢাকা শহর একটু দম ফেলতে পারতো।

এরকম কি কোনদিন হবে? কোন যোগ্য নেতা কি এই দেশে পাওয়া যাবে না?

বিঃ দ্রঃ সরকার মানে কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোন রাজনৈতিক দল নয়। সরকার মানে একদল মানুষ যারা জনগনের মঙ্গলের দায়িত্বে থাকে।

বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১০

গ্রামীনফোন বনাম সিটিসেল ইন্টারনেট

গ্রামীনফোনের আনলিমিটেড ইউজার ছিলাম...(৮০০ এবং ভ্যাট)
অনেক বিরক্ত ছিলাম...
সিটেসেল জুম আলট্রা ১ জিবি নিলাম...(৩০০ এবং ভ্যাট)
অনেক কম বিরক্ত এখন...
আরো অনেক স্পীড আশা করি আমরা...

হায় স্বপ্ন...

আমাদের নেতারা প্রায়ই বলেন...অমুকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো...তমুকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো...
প্রশ্ন হলো...তারা তো ওই স্বপ্ন দেখেছিলেন ৩০ / ৩৫ বছর আগে...
সেই স্বপ্ন কি এখনকার জন্য প্রযোজ্য...? পৃথিবী কি আর আগায়নি...?

তাছাড়া নেতার নিজস্ব স্বকীয়তা বলে কি কিছু নেই...?
তিনি নিজে কোন স্বপ্ন কি দেখেন না...?

বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০১০

জীবনানন্দ দাস

বনলতা সেন - জীবনানন্দ দাস

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে আরো দূর অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি। বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি। আরো দূর অন্ধকার বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য। অতিদূর সমুদ্রের'পর
হাল ভেঙ্গে যে নাবিক হারায়েছে দিশা,
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমনই দেখেছি তারে অন্ধকারে। বলেছে সে, "এতোদিন কোথায় ছিলেন?"
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে চাওয়া নাটোরের বনলতা সেন।


সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে। ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল।
পৃথিবীর সব রঙ মুছে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন,
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল।
সব পাখি ঘরে আসে- সব নদী। ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন।
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

জীবনানন্দ দাস

আলো - অন্ধকারে যাই

 আলো-অন্ধকারে যাই- মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে!
স্বপ্ন নয়-শান্তি নয়- ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!
আমি পারি না তারে এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে;
সব কাজ তুচ্ছ মনে হয়, পন্ড মনে হয়,
সব চিন্তা- প্রার্থনার সকল সময়
শূণ্য মনে হয়,
শূণ্য মনে হয়।

জীবনানন্দ দাশ

আকাশলীনা – জীবনানন্দ দাশ (কোথাও পেয়েছি আকাশনীলা)

সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়োনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনাঃ
নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে;

ফিরে এসো এই মাঠে , ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূর - আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়োনাকো আর।

কী কথা তাহার সাথে? -তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মত তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস
-আকাশের ওপারে আকাশ।

মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০১০

হাসি

: বলো তো তাজমহল কে তৈরি করেছিল?
: মিস্ত্রিরা স্যার।

: যা শোনো, তা-ই কি তুমি বিশ্বাস করো?
: আজ্ঞে না। আপনি অনায়াসে সব বলতে পারেন।

: কেমন বাজালাম বলুন তো?
: থামার পর বেশ লাগছে।

: এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য আমার কাছে কেন? একজন উকিলের কাছেযাওয়া উচিত।
: না, সবাই বলল এই পরামর্শ যেকোনো মূর্খও দিতে পারবে।


স্বামী বলছেন স্ত্রীকে: শোনো। আমার যদি ব্যবসার কাজ শেষ না হয়, ফিরতে দেরি হয় তাহলে আমি তোমাকে টেলিগ্রাম করে জানিয়ে দেব।
স্ত্রী: তার আর দরকার নেই। আমি এরই মধ্যে পড়ে ফেলেছি। তোমার কোটের পকেটে আছে।


: ভাঙা হাত-পায়ের জন্য আমরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমা করি।
: ভাঙা হাত-পা নিয়ে আপনারা কী করেন?

আবার আসিব ফিরে - জীবনানন্দ দাস



আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস কোনো- কিশোরীর- ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কল্মীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউএ ভেজা বাঙ্লারই সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।


হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে।
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমূলের ডালে।
হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে।
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙ্গা বায়; রাঙ্গা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক; আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।



আবার আসিব ফিরে - জীবনানন্দ দাস

আট বছর আগে একদিন | জীবনানন্দ দাশ

শোনা গেল লাশকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে – ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হল তার সাধ ।
বধু শূয়েছিল পাশে, শিশুটিও ছিল;
পেম ছিল, আশা ছিল – জোছনায় – তবু সে দেখিল
কোন ভূত? ঘুম কেন ভেংগে গেল তার?
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল – লাশ কাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার ।
এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি !
রক্তফেনামাখা মুখে মড়কের ইদুরের মত ঘাড় গুজি
আঁধার ঘুজির বুকে ঘুমায় এবার ;
কোনদিন জাগিবে না আর ।
‘কোনদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম অবিরাম ভার
সহিবে না আর -’
এই কথা বলেছিল তারে,
চাঁদ ডুবে গেলে – অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মত কোন এক নিস্তব্ধতা এসে ।
তবুও তো পেঁচা জাগে;
গলিত স্থবির ব্যাংগ আরো দুই মুহূর্তের ভিক্ষা মাগে
কয়েক্টি প্রভাতের ইশারায় -অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে ।
টের পাই যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে
চারি দিকে মশারির ক্ষমাহীন বিরুদ্ধতা;
মশা তার অন্ধকার সঙ্ঘারামে জেগে থাকে জীবনের স্রোত ভালবেসে ।
রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি ;
সোনালী রোদের ঢেইয়ে উড়ন্ত কীটের খেলা কত দেখিয়াছি ।
ঘনিষ্ট আকাশ যেন, কোন বিকীর্ণ জীবন
অধিকার করে আছ ইহাদের মন ।;
দুরন্ত শিশুর হাতে ফড়িংযের ঘন শিহরন
মরনের সাথে লড়িয়াছে ।
চাঁদ ডুবে গেলে প্রধান আঁধারে তুমি অশ্বত্থের কাছে
এক গাছা দড়ি হাতে নিয়ে গিয়েছিলে তবু একা একা,
যে জীবন ফড়িংযের দোয়েলের – মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা ,
- এই জেনে ।
অশ্বথের শাখা
করেনি কি প্রতিবাদ? জোনাকীর ভিড় এসে
সোনালী ফুলের স্নিগ্ধ ঝাকে
করে নি কি মাখা মাখি ?
থুর থুরে অন্ধ পেঁচা এসে
বলে নি কি ‘ বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার! —
ধরা যাক দুই একটা ইদুর এবার !’
জানায় নি কি পেঁচা এসে এ তুমুল গাঢ় সমাচার ?
জীবনের এই স্বাদ – সুপক্ক যবের ঘ্রাণ হেমন্তের বিকেলের -
তোমার অসহ্য বোধ হল;
মর্গে কি হৃদয় জুড়ালো
মর্গে – গুমোটে
থ্যাঁতা ইদুরের মত রক্তমাখা ঠোটে !
শোনো
তবুও এ মৃতের গল্প; – কোন
নারীর প্রণয়ে ব্যর্থ হয় নাই ;
বিবাহিত জীবনের সাধ
কোথাও রাখেনি কোন খাদ ।
সময়ের উদবর্তনে উঠে আসে বধু
মধু – আর মননের মধু
দিয়েছে জানিতে;
হাঢ়াভাতের গ্লানি কোন বেদনার শীতে
এ জীবন কোন দিন কেপে ওঠে নাই;
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শূয়ে আছে টেবিলের ‘পরে ।
জানি – তবু জানি
নারীর হৃদয় – প্রেম -শিশূ – গৃহ- নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয় -
আরো এক বিপন্ন বিষ্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
ক্লান্ত ক্লান্ত করে ;
লাশ কাটা ঘরে
সেই ক্লান্তি নাই,
তাই
লাশকাটা ঘরে
চিৎ হয়ে শূয়ে আছে টেবিলের ‘পরে ।
তবু রোজ রাতে আমি চেয়ে দেখি, আহা,
থুরথুরে অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে,
চোখ পাল্টায়ে কয়ঃ ‘ বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?
চমৎকার! —
ধরা যাক দুই একটা ইদুর এবার –!’
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।




আট বছর আগে একদিন | জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ দাস

http://jeebonanondo.blogspot.com/

জীবনানন্দ দাস


লোকেন বোসের জর্নাল 


সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি —
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে
এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে
সুজাতাকে আমি ভালোবাসি কি না।
পুরোনো চিঠির ফাইল কিছু আছে:
সুজাতা লিখেছে আমার কাছে,
বারো তেরো কুড়ি বছর আগের সে-সব কথা;
ফাইল নাড়া কি যে মিহি কেরানীর কাজ;
নাড়বো না আমিনেড়ে কার কি লাভ;
মনে হয় অমিতা সেনের সাথে সুবলের ভাব,
সুবলেরই শুধু? অবশ্য আমি তাকে
মানে এই — অমিতা বলছি যাকে —
কিন্তু কথাটা থাক;
কিন্তু তবুও —আজকে হৃদয় পথিক নয়তো আর,
নারী যদি মৃগতৃষ্ণার মতো — তবে
এখন কি করে মন কারভান হবে।
প্রৌঢ় হৃদয়,
তুমিসেই সব মৃগতৃষ্ণিকাতলে ঈষৼ সিমুমে
হয়তো কখনো বৈতাল মরুভুমি,
হৃদয়, হৃদয় তুমি!

তারপর তুমি নিজের ভিতরে ফিরে এসে তব চুপে
মরীচিকা জয় করেছো বিনয়ী যে ভীষন নামরূপে
সেখানে বালির সৼ নিরবতা ধূ ধূ
প্রেম নয় তবু প্রমেরই মতন শুধু।
অমিতা সেনকে সুবল কি ভালোবাসে?
অমিতা নিজে কি তাকে?
অবসর মতো কথা ভাবা যাবে,
ঢের অবসর চাই;
দূর ব্রহ্মাণ্ডকে তিলে টেনে এনে সমাহিত হওয়া চাই
এখনি টেনিসে যেতে হবে তবু,
ফিরে এসে রাতে ক্লাবে;

কখন সময় হবে।
হেমন্তে ঘাসে নীল ফুল ফোঁটে —
হৃদয় কেন যে কাঁপে,
'ভালোবাসতাম' — স্মৃতি — অঙ্গার — পাপে
তর্কিত কেন রয়েছে বর্তমান।
সে-ও কি আমায় —
সুজাতা আমায় ভালোবেসে ফেলেছিলো?
আজো ভালোবাসে নাকি?
ইলেকট্রনেরা নিজ দোষগুনে বলয়িত হয়ে রবে;
কোনো অন্তিম ক্ষালিত আকাশেএর উত্তর হবে?
সুজাতা এখন ভুবনেশ্বরে;
অমিতা কি মিহিজামে?
বহুদিন থেকে ঠিকানা না জেনে ভালোই হয়েছে — সবই।
ঘাসের ভিতরে নীল শাদা ফুল ফোটে হেমন্তরাগে;
সময়ের এই স্থির এক দিক,
তবু স্থিরতর নয়;
প্রতিটি দিনের নতুন জীবাণু আবার স্থাপিত হয়।

সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০