রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

আজ কতক্ষণ দাঁত ব্রাশ করেছেন?



সঠিক নিয়মে ও সঠিক সময়ে দাঁত ব্রাশ করতে না শেখার কারণে আপনার শিশু এবং আপনি নিজেও নিজের অজান্তে শিকার হন দাঁত ও মুখের নানা সমস্যায়।
 
দাঁতের ক্যারিজ, সংক্রমণ, মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিস ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায় মুখ ও দাঁত সঠিকভাবে পরিষ্কার রেখে। এর জন্য মেনে চলতে হবে টুথব্রাশ করার সঠিক নিয়মগুলো।
অন্তত দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে। দিনে তিনবার হলে আরও ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা কোনোভাবেই ভুলবেন না।
 
রাতে ব্রাশ করার পর আর কিছু খাবেন না। তাড়াহুড়া না করে সময় লাগিয়ে ব্রাশ করুন। শিশুদের দাঁত ব্রাশে খুব তাড়া থাকে। কমপক্ষে দুই মিনিট বা সম্ভব হলে তিন মিনিট ধরে ব্রাশ করতে হবে। মুখের ভেতরটা চারভাগে ভাগ করে নিয়ে প্রতি চতুর্থাংশ কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড ধরে ব্রাশ করুন।
 
প্রতিটি দাঁত, মাড়ির ভেতরের অংশ, তালু ও জিহ্বার ওপরও ব্রাশ করুন। যথেষ্ট নরম আঁশের ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। ব্রাশের আকার হবে আপনার মুখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন আকারের ব্রাশ লাগে। এটি লক্ষ রাখুন।
 
প্রতি দুই থেকে তিন মাস অন্তর অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করুন।ব্যবহারের পর ব্রাশটি যথাযথভাবে পরিষ্কার করে লম্বা করে কোনো পাত্রে দাঁড় করিয়ে রাখুন। টুথব্রাশে ঢাকনা ব্যবহার না করলে বা শুইয়ে রাখলে তাতে জীবাণু জমার সুযোগ থাকে।
 
শুধু ব্রাশ করলে অনেক সময় দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ময়লা বা খাদ্যকণা পরিষ্কার না-ও হতে পারে। এতে দাঁতে সংক্রমণ হওয়ার ভয় থেকেই যায়। তাই দাঁত ব্রাশ করার পর ডেন্টাল ফ্লস বা সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করে নিন।
 
- ডা. তানজিনা হোসেন

কোলেস্টেরল মুক্তখাবার আছে কি?



রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে যখন ডাক্তারের কাছে এত ছুটাছুটি তখন কিছু কিছু কোম্পানি কোলেস্টেরল ফ্রি ফুডের চটকদার প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতা-ভোক্তাদের প্রলুদ্ধ করে থাকেন। একমাত্র শাক সবজি, ফলমূল ছাড়া কোন খাবার কোলেস্টেরল ফ্রি বা কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার নয়। সব খাবারে কমবেশি চর্বি থাকে।  

অনেকে জানতে চান কোলেস্টেরল বা চর্বিমুক্ত বা কোলেস্টেরল ফ্রি ফুড আছে কি? কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ কয়েক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। যেমন: হাই কোলেস্টেরল ফুড, কোলেস্টেরল ফুড ও কোলেস্টেরল ফ্রি ফুড। মূলত: কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার আসে শাক-সবজি ও ফলমূল থেকে। আর কম চর্বি যুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে কম চর্বির দুগ্ধজাত খাবার মাছ ও পোল্ট্রি। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে কম চর্বিযুক্ত খাবার ও চর্বি মুক্ত খাবার আহারের মাধ্যমে হূদরোগের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।  
বাজারে আজকাল অনেক খাবারে বিশেষ করে কৌটাজাত ও বোতলজাত খাবারের গায়ে লেখা আছে কোলেস্টেরল ফ্রি বা নো কোলেস্টেরল ইত্যাদি। আসলে কোন animal ফুড কোলেস্টেরল ফ্রি হয় না। কেবলমাত্র সবজি, ফল-মূল, শস্যকণা ও লেগুমস কোলেস্টেরল মুক্ত হয়। এছাড়া ব্রেড, সিরিয়ালস, রাইস, পেসতা, শুষ্ক মটরশুঁটি জাতীয় খাবারে বেশি পরিমাণ শর্করা ও আঁশ থাকে, চর্বি কম থাকে, তাই কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার আহার করতে চাইলে সবজি ও ফলমূলজাতীয় বেশি আহার করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে বাজারে যেসব তেল পাওয়া যায় বিশেষ করে সয়াবিন ও পাম অয়েল কোলেস্টেরল মুক্ত নয়। তাই সবজি রান্নার ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল মুক্ত তেল ব্যবহার অথবা কম তেলে রান্না করা বাঞ্ছনীয়।  

আর একটি কথা মনে রাখা দরকার। কোলেস্টেরল কিন্তু শরীরের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল। তাই ভালো কোলেস্টেরল হূদরোগ বিশেষ করে করনারী হূদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। তাই কোলেস্টেরল ফ্রি ফুড নয়, ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সহায়ক সবজি, আশ জাতীয় খাদ্য আহার বেশি প্রয়োজন।
 
-ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

ডায়েট কোক পান করবেন কি করবেন না



ডায়েট কোক, ডায়েট পেপসিসহ যত ধরনের ডায়েট সফট ড্রিংস রয়েছে এসব ডায়েট ড্রিংকস কি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। ডায়েট ড্রিংকস নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে তাতে শুধু ওয়েট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের ড্রিংকস-এর খানিকটা সুফলের কথা বলা হলেও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি অনেক বেশি। মূলত: ডায়েট ড্রিংকস-এর মধ্যে সুইটেনার হিসাবে মিশ্রিত করা অ¨vসপার্টেম নামের এক ধরনের কৃত্রিম সুইট। 

বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন সময়ে অভিমত দিয়েছেন, এধরনের কৃত্রিম সুইটেনার এর স্বাস্থ্যকর কোন দিক নেই, শুধু জিরো ক্যালরি শ্লোগান ছাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএর এ ধরনের ডায়েট ড্রিংকস-এর অনুমোদন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। গবেষণা তথ্য অনুযায়ী ডায়েট কোকের মূল উপাদান অ¨vসপার্টেম থেকে মাথা ব্যথা, ডিজিনেস, মনযোগ সমস্যা ও চোখের সমস্যা, জয়েন্ট পেইন, ঘাড়ে ব্যথা, ত্বক ও চুলের শুষ্কতা ও মস্তিষ্কে সমস্যা হতে পারে। ডায়েট ড্রিংকস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধের বরাত দিয়ে মার্কিন নেভী ও এয়ার ফোর্স এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ¨vসপার্টেম থেকে খিচুনির তীব্রতা বাড়ে এমনকি মাথা ভনভন করে। এছাড়া আকস্মিক স্মৃতিশক্তি হরাস, নিদ্রাভাব এবং চোখের জ্যোতি হরাস পর্যন্ত পেতে পারে। যা বিশেষ করে কোন পাইলটের জন্য বিপজ্জনক। গবেষণা তথ্যে বলা হয়েছে ডায়েট কোক ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোন বড় ভূমিকা রেখেছে এমন মনে হয় না। যে সময় আমেরিকানরা ডায়েট কোক-এর অনুমোদন দেয় তখন ওভার ওয়েট মানুষের সংখ্যা ছিল শতকরা ২৪ ভাগ। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৫৪ ভাগে। তাই সঙ্গত কারণেই বিশেষজ্ঞগণ প্রশ্ন করছেন আসলেই কি অ¨vস্পার্টেম মিশ্রিত ডায়েট ড্রিংকস আমাদের স্বাস্থ্যের কোন উপকারে আসছে, না আমাদের মস্তিষ্ক রসায়নের ক্ষতি করছে।

অপর এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ডায়েট কোক পানকারী একদল ডেজার্ট স্টর্ম ট্রুপস-এর বার্ণিং মাউথ সিনড্রোম-এ আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে মরুভূমির উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ডায়েট কোক পান করায় ডায়েট কোক থেকে মিথানল পয়জনিং-এর সৃষ্টি হয়। যে কোন গরম পানীয় অথবা গরম খাবারের সঙ্গে ডায়েট কোক পানে এধরনের বিষক্রিয়াজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া ডায়েট ড্রিংকস পানকারীদের অ¨vসপার্টেম -এর মিথানল-এর অন্তত: ১০ ভাগ শরীরে দ্রুত শোষিত হয় যা অ¨vjকোহলের মত প্রভাব ফেলতে পারে। ডায়েট ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এয়ারলাইন্স পাইলটদের এ ধরনের ড্রিংকস পান থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়। অ¨vসপার্টেম নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে এই রাসায়নিক কৃত্রিম সুইটেনার থেকে মাইগ্রেইনের মত তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে এবং এমনকি অ¨vসপার্টেম ভেঙ্গে ডাইকিটো পাইপ্যারাজিন (ডিকেপি) তৈরি হতে পারে যাকে ব্রেইন টিউমারের অন্যতম কালপ্রিট হিসেবে ধরা হয়। পাশাপাশি অ¨vসপার্টেম মস্তিষ্কের নিউরন বা কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এক ধরনের স্নায়ুবিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

শুধু ডায়েট কোক নয়, সবধরনের ডায়েট ড্রিংকস ও অ¨vসপার্টেম মিশ্রিত খাবার যথাসম্ভব পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে শিশুদের কোন অবস্থাতেই ডায়েট ড্রিংকস দেবেন না। এতে তাদের মস্তিষ্ক গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্মরণশক্তি বা মেমোরি।

- ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

বাড়তি লবণ আর নয়!

লবণ ছাড়া স্বাদ হয় না কোনো কিছুরই। কিন্তু উচ্চরক্তচাপ ও হূদেরাগীদের জন্য অতিরিক্ত লবণ বিষবৎ। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এর সাম্প্রতিক গবেষণার প্রতিবেদন বলছে, বাড়তি লবণ খাওয়া কমানো গেলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

দৈনিক লবণের চাহিদা কত হওয়া উচিত?

সাধারণভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক পাঁচ বা ছয় গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। আর যাদের উচ্চরক্তচাপ, হূদেরাগ, বংশে হূদেরাগের ঝুঁকি আছে, তাদের লবণের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে দেওয়া উচিত। দৈনিক আড়াই গ্রাম লবণ হূদেরাগের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।

লবণ খাওয়া কীভাবে কমানো সম্ভব?

পাতে আলাদা কাঁচা লবণ খাওয়া একেবারেই বাদ দিন। যেকোনো প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর লবণ থাকে। যেমন চিপ্স, wc bvU, চানাচুর, কেচাপ, আচার, সালাদ ড্রেসিং, সয়া সস, ওয়েস্টার সস, ফ্রোজেন ফুড, টিনের মাছ, প্যাকেট স্যুপ বা স্পেগেটি ইত্যাদিতে। এগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। প্যাকেটের খাবার, যেমন চিপ্স ইত্যাদি কেনার সময় লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে কিনুন।

- ডা. তানজিনা হোসেন