বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

মুকেশ আম্বানি

বছরে ১০০ কোটি আয় করে এমন ধনী স্বামী চান এক সুন্দরী তরুণী। তাই একটি অনলাইন ফোরামে নিজের চাহিদা লিখে পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন পূজা চৌহান নামে বছর পঁচিশের ঐ যুবতী। আর ঐ যুবতীর পোস্টটি পড়ে উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন ভারতের মুকেশ আম্বানি। ছোট্ট ওই পোস্টেই মুকেশ বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

পূজা চৌহান লিখছেন,
আমি এই বছর ২৫ বছরে পা দেব। খুবই সুন্দরী। স্টাইলিশ, রুচিশীল। আমি এমন একজন স্বামী চাই, যার বার্ষিক বেতন হবে ১০০ কোটি বা তার বেশি। আপনি হয়তো বলবেন, আমি একটু বেশিই উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু বর্তমানে বার্ষিক ২ কোটি টাকা বেতনে একেবারেই মধ্যবিত্তের মতো জীবনযাপন করতে হয়। সেদিক থেকে আমার চাহিদা একেবারেই বেশি নয়। এই ফোরামে এমন কেউ আছেন, যার বার্ষিক বেতন ১০০ কোটি টাকা? তারা কি সবাই বিবাহিত?

কেন আপনাকে আমি বিয়ে করব? এখনও পর্যন্ত আমি যতগুলো ডেটে গিয়েছি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতনের পুরুষটির বেতন ছিল বার্ষিক ৫০ কোটি টাকা। অতএব আমি ৫০ কোটি টাকার পর থেকেই ভাবছি। তার কারণ কেউ যদি নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে অভিজাত এলাকায় বসবাস করেন, তাহলে বার্ষিক ৫০ কোটি টাকা বেতন একেবারেই যথেষ্ট নয়। আমি কিছু প্রশ্ন করছি।

কেন সব ধনী ব্যক্তিদের স্ত্রীকে দেখতে মোটামুটি হয়? আমার কিছু বান্ধবী আছে, তারা দেখতে খুব একটা ভালো নয়, কিন্তু তাদের বিয়ে হয়েছে ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে। ধনী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন, আপনি কী দেখে সিদ্ধান্ত নেন, যে এই মহিলা আমার স্ত্রী হবেন, আর ইনি গার্লফ্রেন্ড?

ওই ফোরামটিতে বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানিও রয়েছেন। তিনি পোস্টটি দেখে উত্তর দেন।

মুকেশ আম্বানির বুদ্ধিদীপ্ত সেই উত্তরটি হল-

প্রিয় পূজা,
আমি আপনার পোস্টটি খুব মন দিয়ে পড়েছি এবং দেখলাম, আরও বহু মেয়ের আপনার মতোই প্রশ্ন রয়েছে। দয়া করে একজন পেশাদার লগ্নিকারী হিসেবে আপনার প্রশ্নগুলিকে একটু বিশ্লেষণ করতে দিন।

আমার বার্ষিক আয় ১০০ কোটি টাকার বেশি। আপনার চাহিদা মতোই। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী হিসেবে, আপনাকে বিয়ে করা খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত হবে। খুব সহজ উত্তর। দেখুন, আপনি চাইছেন, সৌন্দর্য ও টাকার বিনিময়। অর্থাত্‍‌, আপনাকে বিয়ে করলে একজন সুন্দরী স্ত্রী পাওয়া যাবে। তার বদলে আপনি হবেন ধনী। কিন্তু সমস্যা হল, আপনার এই যৌবন ও সৌন্দর্য একসময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার টাকা শেষ হবে না। বস্তুত, প্রতি বছর আমার আয় বাড়বে। কিন্তু প্রতি বছরই আপনি আরও সুন্দরী হয়ে উঠবেন না।

অতএব অর্থশাস্ত্রের নিরিখে, আমি একজন অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাসেট। আর আপনি ডেপ্রিসিয়েশন অ্যাসেট। অর্থাত্‍‌ আপনার যৌবন ও রূপই যদি আপনার সম্পত্তি হয়ে থাকে, তাহলে ১০ বছর পর আপনার সম্পত্তি অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটে একটি প্রবাদ আছে, প্রত্যেক ট্রেডিংয়ের একটি পজিশন থাকে। আপনার সঙ্গে ডেটিং-ও একটা ট্রেডিং পজিশন। যদি ট্রেড ভ্যালু কমে যায়, তাহলে তা আমরা বিক্রি করে দিই। খামোখা দীর্ঘমেয়াদী ফেলে রেখে লাভ নেই। একই ভাবে আপনাকে বিয়ে করলেও তাই হবে। শুনতে খুব খারাপ লাগলেও সত্যি, যে কোনও সম্পত্তি, যার ডেপ্রিসিয়েশন ভ্যালু বেশি, তা বিক্রি করে দেওয়া বা লিজ দেওয়াই লাভজনক।

যে ব্যক্তির বার্ষিক আয় ১০০ কোটি টাকা, সে নিশ্চয়ই বোকা নয়। ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনার সঙ্গে ডেট করাই যায়, কিন্তু বিয়ে করা যায় না। অতএব কোনও ধনীকে বিয়ে করার স্বপ্ন আপনার না দেখাই বুদ্ধিমানের। বরং নিজে ১০০ কোটি আয় করার চেষ্টা করুন। কোনও ধনীকে বোকা বানানোর চেয়ে ভালো হবে। আশা করি এই উত্তরটি আপনাকে ভাবতে সাহায্য করবে।

টমাস আলভা এডিসন

মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

যোগ্য পাত্র/পাত্রী (সংগৃহীত)

যা দেখলাম পাত্র বা পাত্রী পক্ষের রিকোয়ার্মেন্ট অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা শহরে বিয়া করতে কিছু স্টান্ডার্ড ‘যোগ্যতা’ থাকা জুরুরী।
.
.
কর্মের স্টান্ডার্ডঃ
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের মার্কেট সব সময় হট। সরকারী জবে ফার্স্টক্লাস অফিসার হতে হবে। প্রাইভেট জবের মধ্যে ব্যাংকার বা মোবাইল কোম্পানীকে গনায় ধরা হয়, বাকি গুলা কোন জবের ভিত্রে পড়ে না।
.
প্রবাস বলতে ইউরোপ আম্রিকা অস্ট্রেলিয়া.. মিডিলিস্ট গনার বাহিরে :3

আর ব্যাবসার ক্ষেত্রে ‘বিজনেস ম্যান’ হতে হবে মানে ইন্ডাস্ট্রি, এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাবসায়ী হতে হবে। এর বাহিরে নিজে নিজে যা কইরা যত টাকাই কামান আপনে ‘দোকানদার’। বিয়ার মার্কেটে ‘দোকানদারী’ কোন কর্মের ভিত্রে পড়ে না :3
.
মেয়ে কি করে এইটা নরমালী জিগানো হয় না। কিছু করলে খারাপ না, আর না করলে শোকর আলহামদুলিল্লাহ।
.
.
পড়াশুনার স্টান্ডার্ডঃ
অবশ্যই ঢাকা ভার্সিটি। এর বাহিরে কনে পক্ষের দয়া হইলে অন্যান্য পাব্লিক ভার্সিটি এলাও করলেও করতে পারে। প্রাইভেটের মধ্যে খুব বেশি হইলে NSU, AIUB, IUB, ব্রাক এদ্দুর পর্যন্ত পড়াশুনা জায়েজ আছে। (সাইন্সের ডিমান্ড সব সময় বেশি তাই আলাদা ভাবে কইলাম না)
বাকি অন্য যেখান থেকেই পড়েন বিয়ার বাজারে আপনে অশিক্ষিত। আর জাতীয় ভার্সিটিতে কেউ পইড়া থাকলে ভূলেও কইতে যাইয়েন না, গুষ্টির শিক্ষার স্টান্ডার্ড লইয়া টান খাইবেন :3
.
ফ্যামেলি স্টাটাসঃ
পাত্র-পাত্রীর পরিবারে বাপ-মা-ভাই-বোন-মামা-চাচাদের একেক জনেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মেজর, প্রফেসার, ব্যাংকার, সচিব হতে হবে। তা না হলে আপনি ক্লাসলেস ফ্যামেলির।
.
সম্পত্তির স্টান্ডার্ডঃ
ঢাকায় অবশ্যই বাড়ী থাকতে হবে। আর গাড়ী থাকাটা খুব বেশি ইম্পর্টেন্ট না, তবে থাকলে অন্যদের চেয়ে রেসে আপনি আগায় থাকবেন।
ভাড়াটিয়া পোলাপাইনেগো বিয়ার নাম লইতে নাই :3
.
কাবিন স্টান্ডার্ডঃ
বর্তমানে কাবিনের স্টান্ডার্ড রেট ১০-১৫ লাখ!! এর নিচে হইলে ইজ্জত থাকে না।
পাত্রী পক্ষের ময় মুরুব্বি যেমনে ’১০-১৫ লাখের নিচে মাইয়া দিমুই’ না কইয়া খুটি গাইড়া বইসা থাকে মাঝে মধ্যে কনফিউসড হইয়া যাই ওয় কি মাইয়ায় বিয়া দিতে চায় না লাখ টাকা বিনিময়ে মাইয়া লিজ দিতে চায়!!??
.
চেহারা ছুরত স্টান্ডার্ডঃ
মেয়েদের ক্ষেত্রে মেকাপ দিয়া হইলেও তাকে অবশ্যই ফর্সাআআআআআআআ সুন্দ্রী হতে হবে। শ্যামলা বা কালা মাইয়াগো বিয়ার বাজারে পাড়া দেয়া নাজায়েজ :3
.
ছেলেদের ক্ষেত্রে চেহারা ছুরত ভালো হইতে হবে এমন কোন বাধ্য বাধকতা নাই। পাত্রের চেহারা না টাকায় কথা কয়। উপরের রিকোয়ার্মেন্ট ফুলফিল করতে পারলে ভস্কাইন্না চেহারাও নূরানী দৃষ্টিতে দেখা হয়।
.
.
স্বভাব চরিত্র স্টান্ডার্ডঃ
নরমালী ছেলে যত হারামী হোক মেয়েকে পরহেজগার, নামাজী, পর্দানশীল হতে হবে। আর ছেলে যদি উপরের রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল করে তাহলে সে যত বড় টাউডিই হোক তাকে ‘সোনার টুকরা’ ছেলে হিসাবে গণ্য করা হবে। :3
.
পছন্দ স্টান্ডার্ড:
যেহেতু লাভ মেরিজের ট্রেন্ড চলতেছে তাই বাসা বাড়িতে এখন বিয়ের পাত্র পাত্রী দেখার আগে ছেলে মেয়েকে জিজ্ঞাস করা হয় তার কোন পছন্দ আছে কিনা?
যদি শুনে পছন্দ আছে তাহলে সেই পছন্দের মানুষকে বাদ দিয়ে তামাম দুনিয়ার যে কারো সাথে বিয়ে দিতে গার্জিয়ানেরা বদ্ধপরিকর থাকিবে!! :3
.
.

সো ফেব্রুয়ারী মাস আইলেই এইডে, ঐডে এর পিছে টাকা আর সময় নষ্ট করার আগে ভালোমত হিসাব কইরা দেখেন যার পিছে ঘুরতাছেন হের কাছে নিজের মার্কেট ডিমান্ড কত? যতই কন হিসাব কইরা ভালোবাসা যায়না কিন্তু একটা টাইমে দেখবেন ঠিকি ক্যাল্কুলেটার নিয়া হিসাবে বসতে হইছে।
.
শেষে যাইয়া ‘তুমি অনেক ভালো মানুষ, তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো’ এই পুরান টেপ রেকর্ডার যেন বাজানির না লাগে -_-

উৎসঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10205951668012933&id=1296783107

বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

জমির মালিকানা

=খতিয়ান কি?
=সি এস খতিয়ান কি?
=এস এ খতিয়ান কি?
=আর এস খতিয়ান কি?
=বি এস খতিয়ান কি?
=পর্চা কি?
=চিটা কি?
=দখলনামা কি?
=বয়নামা কি?
=জমাবন্দি কি?
=দাখিলা কি?
=হুকুমনামা কি?
=জমা খারিজ কি?
=মৌজা কি?
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
=খতিয়ানঃ

মৌজা ভিত্তিক এক বা একাদিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্ত্তত করা হয় তাকে
খতিয়ান বলে। এতে ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি,
খাজনার হার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে
সিএস, এসএ এবং আরএস উল্লেখযোগ্য।

=সি এস খতিয়ানঃ

১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখণ্ড পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।

=এস এ খতিয়ানঃ

১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। তৎপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে মাঠে না গিয়ে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা এসএ খতিয়ান নামে পরিচিত। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এসএ খতিয়ান ৬২র
খতিয়ান নামেও পরিচিত।

আর এস খতিয়ানঃ

একবার জরিপ হওয়ার পর তাতে উল্লেখিত ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য
পরবর্তীতে যে জরিপ করা হয় তা আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে, এসএ জরিপের আলোকে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান প্রস্তুতের সময় জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে তদন্ত করেনি। তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি মাপ-ঝোঁক করে পুনরায় খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খতিয়ান আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। সারাদেশে এখন পর্যন্ত তা সমাপ্ত না হলেও অনেক জেলাতেই আরএস খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে জমি
মাপামাপি করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন বলে তাতে ভুলত্রুটি কম লক্ষ্য করা যায়।
বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।

=বি এস খতিয়ানঃ

সর্ব শেষ এই জরিপ ১৯৯০ সা পরিচালিত হয়। ঢাকা অঞ্চলে মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।

=দাগঃ

দাগ শব্দের অর্থ ভূমিখ-। ভূমির ভাগ বা অংশ বা পরিমাপ করা হয়েছে এবং যে সময়ে পরিমাপ করা হয়েছিল সেই সময়ে ক্রম অনুসারে প্রদত্ত ওই পরিমাপ সম্পর্কিত নম্বর বা চিহ্ন।
সরেজমিনে জরিপ করার পর আমিন বা জমি পরিমাপকারী সর্ব প্রথম গ্রামের চতুঃসীমা নির্ধারণ করেন এবং গ্রামের প্রতিটি ভূমিখ-
পরিমাপ করে তার অবস্থান ওই গ্রামের প্রস্তুয়মান নকশায় প্রদর্শন করার জন্য সংখ্যায়িত করেন। এভাবে নকশায় প্রদর্শিত প্রতিটি ভূমিখন্ডের সংখ্যাকে দাগ নম্বর বলে। দাগকে কোথাও কিত্তা বলা হয়।

=পর্চা কীঃ

ভূমি জরিপকালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকেরনিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়।

=চিটাঃ

একটি ক্ষুদ্র ভূমির পরিমাণ, রকম ইত্যাদির পূর্ণ বিবরণ চিটা নামে পরিচিত। বাটোয়ারা মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি দেয়ার পর তাকে ফাইনাল ডিক্রিতে পরিণত করার আগে অ্যাডভোকেট কমিশনার সরেজমিন জমি পরিমাপ করে প্রাথমিক ডিক্রি মতে সম্পত্তি এমনি করে পক্ষদের বুঝায়ে দেন। ওই সময় তিনি যে খসড়া ম্যাপ প্রস্তুত করেন তা চিটা বা চিটাদাগ নামে পরিচিত।

=দখলনামাঃ

দখল হস্তান্তরের সনদপত্র।
সার্টিফিকেট জারীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি কোনো সম্পত্তি নিলাম খরিদ করে নিলে সরকার পক্ষ সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর যে সনদপত্র প্রদান করেন তাকে দখলনামা বলে।
সরকারের লোক সরেজমিনে গিয়ে ঢোল পিটিয়ে, লাল নিশান উড়ায়ে বা বাঁশ গেড়ে দখল প্রদান করেন। কোনো ডিক্রিজারির ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় হলে আদালত ওই
সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে যে সার্টিফিকেট প্রদান করেন তাকেও দখলনামা বলা হয়। যিনি সরকার অথবা আদালতের নিকট
থেকে কোনো সম্পত্তির দখলনামা প্রাপ্ত হন, ধরে নিতে হবে যে, দখলনামা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দখল আছে।

=বয়নামাঃ

১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের ৯৪ নিয়ম অনুসারে কোনো স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে আদালত নিলাম ক্রেতাকে নিলামকৃত সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত যে সনদ দেন তা বায়নামা
নামে পরিচিত।
বায়নামায় নিলাম ক্রেতার নামসহ অন্যান্য তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ থাকে। কোনো নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে ক্রেতার অনুকূলে অবশ্যই বায়নামা দিতে হবে।
যে তারিখে নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হয় বায়নামায় সে তারিখ উল্লেখ করতে হয়।

=জমাবন্দিঃ

জমিদারি আমলে জমিদার বা তালুকদারের সেরেস্তায় প্রজার নাম, জমি ও খাজনার বিবরণী লিপিবদ্ধ করার নিয়ম জমাবন্দি নামে পরিচিত। বর্তমানে তহশিল অফিসে অনুরূপ রেকর্ড রাখা হয় এবং তা জমাবন্দি নামে পরিচিত।

=দাখিলাঃ

সরকার বা সম্পত্তির মালিককে খাজনা দিলে যে রশিদ প্রদান করা হয় তা
দাখিলা বা খাজনার রশিদ নামে পরিচিত।
দাখিলা কোনো স্বত্বের দলিল নয়, তবে তা দখল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।

=হুকুমনামাঃ

আমলনামা বা হুকুমনামা বলতে জমিদারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেয়ার পর প্রজার স্বত্ব দখল প্রমাণের দলিলকে বুঝায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে জমিদার কর্তৃক প্রজার বরাবরে দেয়া জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত নির্দেশপত্রই আমলনামা।

=জমা খারিজ কিঃ

জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়।

=মৌজা কিঃ

ক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতি থানা এলাকাকে অনোকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। থানা এলাকার এরুপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।

আপনার এবং আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাস উপযোগী বসতভিটা এবং চাষাবাদযোগ্য
জমিকে নির্ভেজাল রাখতে আপনি সচেতন হোন।

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৬

পড়তে ভালো লাগেনা

পুত্রকে তার মা জিজ্ঞাস করলো, "তোমার লেখাপড়ার সময় ঘুম আসে। এখন যে খেলছো। ঘুম আসেনা?"
উত্তর, "পড়তে ভালো লাগেনা। এইজন্য ঘুম আসে।"

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬

ফল ও আমাদের জাতীয় হীনমন্যতা!


আমাদের দেশে শহর, মফস্বল, গ্রাম সব জায়গায় কেউ বেড়াতে গেলে যেসব ফল নিয়ে যায় সেগুলো হলঃ আপেল, কমলা, নাশপাতি, আঙ্গুর।
দেশী ফলের চাহিদা ও যোগান, দুইটারই অভাব। ভদ্রলোক কোন ভদ্রলোকের বাসায় দেশী ফল নেয়না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও আপেল, কমলাই নিতে হবে। শুধু আম, লিচু চলে।
অথচ দেশীয় ফলের খাদ্যগুণ অনেক বেশী।
কত কষ্ট কইরা আঙ্গুর চাষ করে, এখন আরো বিদেশী ফল ফলানোর জন্য যুদ্ধ চলছে।
যদিও আঙ্গুর এখনও উপযুক্ত আকার ও স্বাদ অর্জন করতে পারে নাই। বাকিগুলাও একই হবে।
বিদেশী ফল দেশ থেকে দেশী ফলকে উৎখাত করেছে।
ফল ও তো জাতীয় সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে।
বিদেশীরা আমাদের ফল দেখতে চাইলে দেখানো কঠিন।
( আতা, আনার, আনারস, আম, আমড়া, আমলকী, করমচা, কলা, কাঁঠাল, লিচু, কামরাঙ্গা, কুল, কৎ বেল, গন্ধরাজ লেবু, গাব, চালতা, চুকাই, জাম, জামরুল, জাম্বুরা, ডালিম, ডেউয়া, তাল, গাব, নারিকেল, পানিফল, পেয়ারা, বিলিম্বি, বেতফল, বেদানা, বেল, বৈঁচি, লটকন, লিচু, শরিফা, সফেদা, সাতকরা ইত্যাদি)

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

হাতিরঝিল বক্কর চক্কর বাস সার্ভিস

হাতিরঝিল চক্রাকার বাস সার্ভিস দ্বারা আর যাই হোক অফিস ধরা সম্ভব না। এক সপ্তাহ ও আরাম করতে পারলাম না। আবার হাঁটা। স্বাস্থ্য ভাল রাখা। আধাঘন্টা পর ৬০-৭০ জন জমলে ১টা আসে। ঠাইসা ৫০ জন ভরে। এরপরও কয় ভাই একটু জায়গা করেন। অফিস টাইম। আমগো তাও হাঁটার কায়দা আছে। বাচ্চাসহ মানুষরা, অসুস্থরা, হাতে ওজন থাকলে মানুষ কি করবো? মগবাজার যারা যাইবো তারা কি করবো? মজা লস?

আমাদের মিডিয়া

"টুইন টাওয়ার হামলায় এত মানুষ মারা গেলো কটা লাশ দেখেছেন? সাংবাদিকদের ধারে কাছেও যেতে দেয়া হয়নি। অার রানা প্লাজার লাশ এর ছবি তুলে অামরা পুরষ্কারও বাগিয়ে নিয়েছি। অাগুনে পোড়া মানুষের মডেলিং করি হাসপাতাল গিয়ে। :( " Mahmud Hasan Khan

ক্রিকেট বানিজ্য

ফুটবল খেলে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ...ক্রিকেট খেলে কয়েকটা মাত্র দেশ...এর মধ্যে তিন / চারটা দেশ আবার খালি নিজেদের মধ্যে খেলতে চায়...Come on kids, grow up...

পরিবেশ ও উন্নতি

দেখা যাচ্ছে, চরম পরিবেশ যেসব দেশে তারাই পরিশ্রমী, নিয়মতান্ত্রিক, সম্পদশালী। বরফে ঢাকা, সুপেয় পানির অভাব, পাথুরে বা মরু এলাকা হওয়া সত্বেও ওরা জ্ঞান-বিজ্ঞানেও আছে, শক্তিতেও আছে, সম্পদেও আছে। আমাদের মাটি, পানি, পরিবেশ আরামদায়ক হওয়ায় আমরা কি কর্মবিমুখ, অপরিচ্ছন্ন, অনিয়মতান্ত্রিক?!?!?
কাহিনী কি?!?!

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৬

কঠিন বাস্তব

ফিলিস্তিন, আফগানিস্থান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, লেবানন এর সীমানা বলে আর কিছু নেই। যে যখন খুশী আসে। বোমা মারে। শিশু মারে। বৃদ্ধ মারে। নারী হত্যা করে। নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করে। হাসপাতালে বোমা ফেলে।

এবার সৌদিআরব। ওরা কত খারাপ?!?!

অথচ এরা কেউই অস্ত্রের ব্যবসা করেনা। পরমাণু অস্ত্র বানায় না। মহাকাশ দখলের চেষ্টা করেনা। কৃত্রিম উপগ্রহ বানিয়ে সারা বিশ্বে নজরদারি করেনা। কেউই শিল্পোন্নত দেশ নয়। জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রন করেনা। অন্য দেশে বোমা ফেলে না। মানবাধিকার এর স্বরচিত সংঙ্গা প্রচার করেনা। নিজের ভালো ও মন্দ নিয়ে নিজের মত থাকতে চায়।

প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এরা কেউই প্রধান চরিত্র ছিলনা।

কিন্তু অনেক দেশের সরকারই নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জন্য কুখ্যাত। কিছু সরকারপ্রধান জঙ্গি হিসেবে স্বীকৃত, কেউ মিথ্যা বলে যুদ্ধ বাঁধিয়েও নির্দোষ। কিন্তু বলা যাবেনা।

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

মজার শিক্ষনীয়

বাজ পাখী প্রায় ৭০ বছর জীবিত থাকে। অথচ  ৪০ আসতেই ওকে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ওই সময় তার শরীরের তিনটি প্রধান অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে।।।
.
১. থাবা( পায়ের নখ) লম্বা ও নরম হয়ে যায়।।। শিকার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।।।
.
২. ঠোঁট টা সামনের দিকে মুড়ে যায়।।। ফলে খাবার খুটে বা ছিড়ে খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।।।
.
৩. ডানা ভারী হয়ে যায়।। এবং বুকের কাছে আটকে যাওয়ার দরুন উড়ান সীমিত হয়ে যায়।।।
.
ফলস্বরুপ শিকার খোজা,ধরা ও খাওয়া তিনটেই ধীরে ধীরে মুশকিল হয়ে পড়ে।।। ওর কাছে তিনটে পথ খোলা থাকে।
.
১. আত্নহত্যা
২. শকুনের মত মৃতদেহ খাওয়া
৩. নিজকে পুনরস্থাপিত করা।
.
ও একটা উচু পাহাড়ে আশ্রয় নেয়।।। সেখানে বাসা বাঁধে।। আর শুরু করে নতূন প্রচেষ্টা।
.
সে প্রথমে তার ঠোঁট টা পাথরে মেরে মেরে ভেঙে ফেলে। এর থেকে যন্ত্রণা আর হয় না।।। একইরকম ভাবে নখ গুলো ভেঙে ফেলে আর অপেক্ষা করে নতূন নখ ও ঠোঁট গজানোর।।।
.
নখ ও ঠোঁট গজালে ও ওর ডানার সমস্ত পালক গুলো ছিড়ে ফেলে।। কষ্ট সহ্য করে অপেক্ষা করতে থাকে নতূন পালকের।। ১৫০ দিনের যন্ত্রণা ও প্রতীক্ষার পর সে সব নতূন করে পায়।। পায় আবার সেই লম্বা উড়ান আর ক্ষিপ্রতা।।
.
এরপর সে আরো ৩০ বছর জীবিত থাকে আগের মত শক্তি ও গরিমা নিয়ে।।
.
ইচ্ছা,সক্রিয়তা ও কল্পনা... আমাদের দুর্বল হয়ে পড়ে ৪০ আসতেই।।। অর্ধজীবনেই আমাদের উৎসাহ, আকাঙ্খা,শক্তি কমে যায়।
.
আমাদেরও আলস্য উৎপন্নকারী মানসিকতা ত্যাগ করে,অতীতের ভারাক্রান্ত মন কে সরিয়ে ও জীবনের বিবশতা কে কাটিয়ে ফেলতে হবে বাজের ঠোঁট,ডানা আর থাবার মত।।।
.
১৫০ দিন না হলেও ১মাসও যদি আমরা চেষ্টা করি তাহলে আবার আমরা পাবো নতূন উদ্যম, অভিজ্ঞতা ও অন্তহীন শক্তি।।।
.
নিজেকে কখনোই হারাতে দেবেন না আর হার ও মানবেন না!!!!
[সংগৃহীত]

বিজ্ঞাপনের (অপ)শক্তি

গাছের আম যে খুঁজে সে বোকা, প্লাস্টিকের বোতলেই আম পাওয়া যায় যেখানে। গাছ থেকে খাওয়ার দিন শেষ। সব তৈরী করে এনে দিচ্ছে বলছে।

অথচ ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিক না হলে তা ক্যান্সার এর কারন। সেটার দামও অনেক।

আর ফলের রস বলে যা বিক্রি করছে, তা মোটেও ফল নয়। পাল্প, ফুড কালার, ফুড ফ্লেভার, কিছু প্রিজারভেটিভ।

পটেটো চিপসে কোন আলু থাকেনা।

নির্দিষ্ট কোম্পানির ঢেউটিন ব্যবহার না করলে ব ওকার ক অাকার = বোকা।

ক্রিম ব্যবহারে রং ফর্মা হয়। সেটা আবার ইউরোপ, আমেরিকার ক্রিমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জিতেছে দাবি।

আফ্রিকার লোকেরা কি ফর্সা হবে? ফরসা হওয়াটা জরুরী কেন? অথচ ফর্সা মানুষের চামড়ার ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কালো মানুষের তুলনায় বেশী।

কত হাজার পদের ক্রিম যে কিনায়। কোনটা ক্লিনসার, কোনটা চামড়ার উজ্জলতা বাড়ায়, কোনটা মসৃনতা, কোনটা বয়স কমায়, কোনটা অয়লি ভাব দূর করে, কোনটা রোদ থেকে বাঁচায়, কোনটা পুরুষদের জন্য, তাদের ম্যানলি ভাব আনে, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি

শুরু হয়েছিল একথা বলে, কি সব ছাইপাশ, কয়লা দিয়ে দাঁত মাজেন। অসাস্থ্যকর। আমাদের কোম্পানির টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। এখন বলছে টুথপেস্ট এ চারকোল (কয়লা), লবন এসব আছে। কিনুন সুস্থ্য দাঁতের জন্য।

এনার্জি ড্রিংকস না খেলেতো কোন কাজই করা অসম্ভব। কিছু ড্রিংকসের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের ক্ষমতা আবার গবেষনাও প্রমানিত। কে গবেষনা করেছে তা জানানো হয়না। কিছু এনার্জি ড্রিংকস এ সরাসরি এলকোহল মিশানো হয়।

আর শ্যাম্পু ব্যবহার না করে মুখে ঢেলে গিলে ফেললে মনে হয় ফল বেশী। এতসব পুষ্টিকর উপাদান থাকে। অথচ সমাজের যে অংশ শ্যাম্পু ব্যবহার করে তাদেরই চুলে কোন সমস্যা থাকেনা, টাক হয়না।

সাবান যে কত পদের আছে, কত উপকার, তার সীমা নেই।

ওরা এমনভাবে, এমন ভাষায় পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করে যে সেই পণ্য ব্যবহার না করলে জীবনই বৃথা।

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

সাম্প্রদায়িকতা-ওরা এবং আমরা

১. জন্মের পর ব্যাপটাইজ (Baptism = Christening, Naming) করা হয়, বিয়ে চার্চে হয়, মৃত্যুতে চার্চে শোক প্রকাশ করা হয়।

জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে ধর্মীয় রীতিতে উদযাপন করা হয়

২. মুদ্রায় "ইন গড উই ট্রাস্ট" লেখা থাকে

৩. রবিবার সাপ্তবাহিক বন্ধ, কারণ চার্চে যাবার দিন

৪. কথায় কথায় ওহ জেসাস, ওহ গড বলা হয়

৫. শুধু বড়দিনে ছুটি, অন্যকোন ধর্মীয় উৎসবে নাই

এসবকে কি সাম্প্রদায়িকতা বলা যায়
নাকি এটাই স্বাভাবিক
ওরা আমাদের কিভাবে গোঁড়া বলে?

Academy এর বাংলা কি?!?!

বাংলা একাডেমী

বাংলা ভাষার ধারক ও বাহক
এর পরিচর্যাকারী
কিন্তু একাডেমী তো ইংরেজী শব্দ
এর কোন বাংলা নেই!!!
একটা দেশের, ভাষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান অর্ধেক বাংলা আর অর্ধেক ইংরেজী ব্যবহার করে তার নামের ক্ষেত্রে!!!
একে অনেকে বাংলীশ বলেন।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

প্রসঙ্গ ব্যাংক

আমাদের দেশের অর্থমন্ত্রীদের নায়ক হওয়ার খুব শখ। একারনে তারা প্রায়ই ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন কৌশলে হেয় করার চেষ্টা করে। ওদের নায়কোচিত বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে দেখে ব্যবসায়িরা ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের গালি দেয়, সাধারন মানুষ গালি দেয়, মিডিয়া গালি দেয়।

তাদের অভিযোগ অনেক।
ব্যাংক অনেক লাভ করে। (নিশ্চই চুরি করে)
অনেক বেতন দেয়। (নিশ্চই চুরি করে)
অনেক টাকা ব্যয় করে অফিস সাজায়। (নিশ্চই চুরি করে)
কর্মচারী - কর্মকর্তারা বাড়ি - গাড়ি হাঁকায়। (নিশ্চই চুরি করে)
মালিকরা অনেক লভ্যাংশ নেয়। (নিশ্চই চুরি করে)
অনেক বিনিয়োগ করে। (নিশ্চই চুরি করে)

বাস্তবতা হল,
ব্যাংকগুলো শতকরা ৪২.৫০ হারে আয়কর দেয়।
সবগুলো ব্যাংকের আর্থিক বিবরনী নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
ব্যাংকসমুহে তদারককারী তিনধরনের  নিরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে - অভ্যন্তরীন, বাহ্যিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক (নিয়মিত ও আকষ্মিক)।
সরকারী ব্যাংকসমুহ সরকারী অন্য যেকোন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম দূর্নীতিগ্রস্থ। যে দূর্নীতি হয় তা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দূবৃত্বদের প্রত্যক্ষ প্রভাবে হয়।

ব্যাংকগুলো যথাযথ ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে কঠোর পরিশ্রম করে নিয়মিতভাবে লাভ করে কর্মীদের উচ্চ পারিশ্রমিক প্রদান করে। সব কোম্পানি উপযুক্ত ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে চাইলেই তা করতে পারে।

ক্রিকেট খেলা...ব্যাংক টাকা দাও।
ফুটবল...ব্যাংক।
হ্যান্ডবল...আবার ব্যাংক।

জাতীয় কোন দূর্যোগ...ব্যাংক কই? টাকা দেয়না ক্যান? টাকা কামাইতে অনেক কষ্ট। কেউ কাউকে এমনি আইসা টাকা দিয়ে যায়না। অর্জন করতে হয়।

কিছু দূর্নীতি নিশ্চয়ই রয়েছে।
বাকি সবাই ঠিক হয়ে গেলে সেটুকুও থাকবেনা।

ব্যাংক যা মন্দ করে তার সব দায় নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে অর্থমন্ত্রীর। নায়কগিরী না করে ব্যাংকের যেকোন দূর্নীতির জন্য দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করা উচিত। জনগনের উচিত তাদের দায়ী করা। ব্যাংকগুলোকে নয়।